বিশেষ প্রতিনিধি: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের চার কৃতী হাফেজ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিজয়ী হাফেজদের বরণ করে নিতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজে যেতে না পারলেও বিজয়ীদের স্বাগত জানানোর তীব্র আগ্রহ ছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের সবক'জন প্রতিযোগীই পুরস্কার নিয়ে ফিরেছেন-একজন অর্জন করেছেন প্রথম স্থান, বাকি তিনজন হয়েছেন তৃতীয়। এ সাফল্যকে দেশের জন্য বড় ধরনের সম্মান ও গৌরবের বিষয় বলে অভিহিত করেন তিনি এবং বলেন, কোরআনের হাফেজ তৈরির উর্বর ভূমি হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হলো।
মন্ত্রীর নির্দেশনায় হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হাফেজদের অভ্যর্থনা জানায়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মো. মাহবুব আলম।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, শিগগিরই পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজদের তার দপ্তরে সংবর্ধনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাছাইকৃত চারজন হাফেজ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রত্যেকেই পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হন।
চতুর্থ গ্রুপে পুরুষ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন মুহাম্মদ জাকারিয়া, যিনি পুরস্কার হিসেবে পান এক লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল। একই গ্রুপের নারী বিভাগে তৃতীয় হন রাবেতা বিনতে রমজান, তার পুরস্কারের অঙ্ক এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।
তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ বিভাগে তৃতীয় স্থান পান শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং নারী বিভাগে তৃতীয় হন মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। তারা দু'জনও পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল করে।
মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়স্থ আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী পড়াশোনা করেন রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায়।
রাবেতা বিনতে রমজান রাজধানীর উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদরাসার ছাত্রী, আর মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকার সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসায় অধ্যয়নরত।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। পাঁচটি গ্রুপ মিলিয়ে মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয় এই আসরে।