মুহাম্মদ আল আমিন (এম.এ) : রাজধানীর বারিধারায় গাড়ি ব্যবসার আড়ালে বড় ধরনের জালিয়াতির জাল বিছিয়েছে ‘বিশ্বাস ইম্পোর্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা নিয়েও মালিকানা বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ। অভিযোগকারী দাবি, গাড়ির পুরো অর্থ পরিশোধের এক বছর পেরিয়ে গেলেও মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা করছে প্রতিষ্ঠানটি। উল্টো পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার বদলে তাকে মানসিক নির্যাতন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। এই জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের আগস্টে বারিধারা জে-ব্লকের ৬৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত বিশ্বাস ইম্পোর্টস থেকে একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রজার প্র্যাডো কেনার চুক্তি করেন মুহাম্মাদ হাসান। ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যের এই গাড়ির বিপরীতে তিনি নগদ ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা সমন্বয় করতে নিজের ব্যবহৃত আগের গাড়িটি শোরুম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু টাকা ও গাড়ি বুঝে পাওয়ার পর থেকেই মালিকপক্ষ গড়িমসি শুরু করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, পাওনা অর্থ ও গাড়ি বুঝে পাওয়ার পর থেকেই শোরুমের মালিকপক্ষ টালবাহানা শুরু করে। অভিযুক্তরা হলেন:- শোরুম মালিক মুসা বিশ্বাস, তাঁর ভাই মহসিন বিশ্বাস এবং মুসা বিশ্বাসের স্ত্রী তানজিনা ইসলাম।
মুহাম্মাদ হাসান বলেন, আমি সব পাওনা পরিশোধ করেছি। অথচ এক বছর হয়ে গেল, গাড়ির নিবন্ধিত কাগজ বা মালিকানা দিচ্ছে না। উল্টো মালিক মুসা বিশ্বাস ও তাঁর লোকজন আমাকে নানাভাবে অপদস্থ করছে। এখন আমি সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বিশ্বাস ইম্পোর্টসের মালিক মুসা বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কাগজের কিছু আইনি জটিলতার কারণে মালিকানা হস্তান্তরে দেরি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে টাকা আত্মসাতের যে কথা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা থেকে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, বারিধারার মতো এলাকায় এমন বড় অংকের প্রতারণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী মুহাম্মাদ হাসান বাদী হয়ে মুসা বিশ্বাস, তাঁর ভাই মহসিন বিশ্বাস ও স্ত্রী তানজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ করেছেন।
আমরা শোরুমের সব নথিপত্র যাচাই করছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিজাত এলাকায় গাড়ির শোরুম খুলে এমন কর্পোরেট প্রতারণার ঘটনায় বারিধারা ও গুলশান এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এ ধরনের চক্রের কারণে সৎ ব্যবসায়ীদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ ক্রেতারা আস্থাহীনতায় ভুগছেন।