সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফার্মেসি থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আড়াইহাজারের এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম জহির ফকির (৪৫)। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং খালিয়ারচর গ্রামের আব্দুল রহমান মাতব্বরের ছেলে।
গতকাল বুধবার (২২ আক্টোবর) রাতে সোনারগাঁও উপজেলার চরহোগলা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে চরহোগলা গ্রামে নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন জহির ফকির। পথিমধ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। জহিরের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মোবারক হোসেনের সঙ্গে জহিরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নিহতের ভাগ্নে ইসমাইল ও বিল্লাল হোসেন বলেন, "ইউপি নির্বাচন ও স্থানীয় নানা বিষয় নিয়ে মোবারকের সঙ্গে জহির মামার দ্বন্দ্ব ছিল। এর আগেও একাধিকবার মোবারক ও তার লোকজন মামার ওপর হামলা চালিয়েছিল। সেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে আড়াইহাজার থেকে এসে পরিকল্পিতভাবে মামাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।" তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সোনারগাঁও থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক প্রথম আলোকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা এতে জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।