কলকাতা প্রতিনিধি: কলকাতার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন লেগে শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আরও ১৫ থেকে ১৬ জন আহত অবস্থায় স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হোটেল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অতিথিরা সবাই গভীর ঘুমে, ফলে সতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি কেউ। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিস্ফোরণ নয়, বরং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কয়েক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, আর ভবন থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় প্রায় ৬০ জনকে। তবে উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, এই দুর্ঘটনায় আগুনে পোড়ার চেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় বিষাক্ত ধোঁয়া। প্রাণ বাঁচাতে অনেক বাসিন্দা আশ্রয় নেন শৌচাগারে, আর একজন আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অনুমোদন ছাড়াই হোটেলটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে।
মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত কম খরচের বাজেট হোটেলের চত্বর হিসেবে। বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটক, আর বিশেষভাবে চিকিৎসাপ্রার্থী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে এই এলাকা বরাবরই প্রথম পছন্দ -সে কারণেই এবারের ট্র্যাজেডিতে বাংলাদেশি প্রাণহানির সংখ্যা এত বেশি।
এই দুর্ঘটনার মাত্র দুদিন আগে, গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে প্রাণ হারান ৯ জন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইতোমধ্যে ১৫টি হোটেলের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই দুটি প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বাজেট হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারিতে থাকা গভীর ঘাটতিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান থাকায় আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ভবনটির অনুমোদন-সংক্রান্ত অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।