সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আবাসিক ভবনে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের গতি বাড়ানোর কম্প্রেসার বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন শরীফ হোসেন (৩৪) এবং তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০)। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী রোজিনা আক্তার (ভোর পৌনে ৪টায়) ও স্বামী শরীফ হোসেন (ভোর ৪টায়) মারা যান।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং শরীফের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত শরীফের শ্যালক রিয়াজ (৪০ শতাংশ দগ্ধ) এবং ওই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রনি মিয়া (৭০ শতাংশ দগ্ধ)। তাদের দুজনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সোনাপুর উত্তরপাড়া এলাকার শাহ আলম মিয়ার ‘ইসলাম টাওয়ার’ নামক ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মূলত গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ কম থাকায় গতি বাড়ানোর জন্য একটি কম্প্রেসার ব্যবহার করা হচ্ছিল। রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে সেই কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হলে কক্ষে আগুন ধরে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই দগ্ধ হন কক্ষে থাকা চারজন।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও চার দিন পর জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন দগ্ধ এই দম্পতি। এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে নিহতদের পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, আবাসিক এলাকায় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস লাইনে কম্প্রেসার ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল